রাইটার্স এনভি রাইটার্স প্রাইড

আশি নব্বইয়ের দশকে একটি বিখ্যাত ব্র্যাণ্ডের টিভির বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো ‘নেবার্স এনভি ওনার্স প্রাইড’ বলে। সম্প্রতি জনপ্রিয় ধারার বাংলাসাহিত্যের একজন স্বনামধন্য কথাশিল্লী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে অত্যন্ত দুঃখের সাথে কিছু কথা মন খুলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়টি হলো ‘রাইটার্স এনভি’ নিয়ে।

যদিও তিনি রাইটার্স প্রাইড নিয়ে আলোচনা করেননি। কিন্তু আমাদের আলোচনার আরম্ভ ‘রাইটার্স প্রাইড’ নিয়ে। একজন লেখকের নিজস্ব একটা দম্ভ থাকবে নিশ্চয়। যে কোন সৃষ্টিশীল মানুষের নিজ সৃষ্টিক্ষমতার বিষয়ে ন্যূনতম দম্ভ থাকার দরকার আছে বইকি। আপন সৃষ্টিক্ষমতা নিয়ে, স্বকীয় সৃজনশীলতা নিয়ে দম্ভ না থাকলে সেই সৃষ্টি সর্বজনীন মূল্য পায় না। পাওয়ার কথাও নয়। শুধু মাত্র সৃষ্টিশীল সৃজনশীল মানুষই বা কেন। যে কোন ধরণের কর্মের সাথে যুক্ত একজন দক্ষ মানুষের ভিতরে এই দম্ভ থাকে। থাকা জরুরী। না থাকলে সেই কাজ খুব একটা কাজে আসে না কারুর। কিন্তু সেই দম্ভ যখন কারুর ভিতরে আত্মম্ভরিতার জন্ম দেয়। বুঝতে হবে ফাঁকা কলসী বাজছে বেশি। এবং হালের বাংলা সাহিত্যজগতের দিকে নির্মোহ দৃষ্টিতে দৃকপাত করলে টের পাওয়া যায়, চারিদিকেই এই কলসীবাদ্যই যেন বেশি শোনা যাচ্ছে। আরও একটু নির্মোহ নিরাসক্ত ভাবে বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসের উপরে এক ঝলক চোখ বুলিয়ে নিলেও দেখা যাবে,  বিশ্বের প্রায় প্রতিটি সাহিত্যেই যে কোন সময়পর্বেই এই কলসীবাদ্যের সংস্কৃতি কম বেশি বর্তমান ছিল। কিন্তু যুগ পরিবর্তনের হাত ধরে কলসীবাদকদের আর পরবর্তী কোন কালই স্মরণে রাখে নি। স্মরণে রেখেছে শুধুমাত্র তাদেরকেই। যাঁদের সাহিত্য পরবর্তী বহু যুগকে কালের বৈতরণী পার করেও নিরন্তর আলো দিয়ে গিয়েছে। অনবরত জীবনবোধের পুষ্টি জুগিয়ে সমৃদ্ধ করে গিয়েছে। এবং মানুষের রসবোধকে টইটুম্বুর করে তুলেছে শতকের পর শতক। সেইসব সাহিত্যিকদেরকে কোনদিনও কলসীবাদ্যের আসরে দেখা যায়নি। আজকেও প্রকৃত সাহিত্যকরা কলসীবাদ্যের আসরে পা দেন না। তার একটা বড়ো কারণ, সেই দম্ভ। যে দম্ভের কথা বলে আলোচনার সূত্রপাত।

এদিকে আমরা বর্তমান এই একুশ শতকে এসে পৌঁছিয়ে যদি সত্য করেই খোলা চোখে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করি। এবং মন খুলে, কি দেখলাম বলতে সঙ্কোচ বোধ না করি। তবে বলতেই হয়। এই শতকে কলসীবাদ্যের আসরই জমজমাট। সেই আসরের জমকালো ছবি আর চকচকে পালিশ দেখে এই যুগের পাঠকবর্গের একটা বড়ো অংশই বিমোহিত্। আজকের সাহিত্যবাজারে ফাঁকা কলসীর বাজারদই চড়া। আর তার পিছনে রাজনৈতিক সংস্কৃতি একটা বড়ো নির্ণায়ক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। সেই আলোচনার পর্বে প্রবেশের পূর্বে, একটা বিষয় স্বীকার করে নেওয়া ভালো। যে আত্মরম্ভিতার সূত্রে ফাঁকা কলসী তত্ত্ব স্মরণ করা, সেই আত্মরম্ভিতাই বর্তমান যুগে সাহিত্যবাজার শাসন করছে। এবং এই আত্মরম্ভিতা আজকের সাহিত্যবাজারের প্রধান কুশীলবদের ভিতরেই সেই রাইটার্স এনভি’র জন্ম দিয়েছে। যে বিষয়টি প্রথিতযশা সাহিত্যিকের আক্ষেপের মূল বিষয় ছিল। যাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরেই আমাদের এই আলোচনা। আর এইখানেই আমাদেরকে দম্ভ আর আত্মম্ভরিতার পার্থক্যটুকু অনুধাবন করতে হবে। এই বিষয়ে পূর্বেই যেকথা বলা হয়েছে। তার পুনরাবৃত্তি নিস্প্রয়োজন। শুধু স্মরণে রাখা দরকার, দম্ভ ব্যাতীত প্রকৃত অর্থে কবি সাহিত্যিক হয়ে ওঠা অসম্ভব। আর মেকি কবি সাহিত্যিকদের আত্মম্ভরিতাই একমাত্র পুঁজি। এই পুঁজিটুকু নিয়েই তাঁদের কারবার। ফলতো এই সামান্য পুঁজির কারবারীদের চেতন অবচেতনে সর্বদাই একটি নিরাপত্তার অভাব কাজ করতে থাকে। কবি বলেছিলেন, ‘অল্প লইয়া থাকি, তাই মোর যাহা যায় তাহা যায়’। যদিও সে একেবারেই অন্য প্রসঙ্গে। কিন্তু আজকের সাহিত্যবাজারের প্রধান কারবারীরা এতই স্বল্প পুঁজি নিয়ে কারবারে নেমে পড়েন যে, সর্বদাই এই এক নিরাপত্তার অভাব তাঁদের তাড়া করতে থাকে। সেই স্বল্প পুঁজিটুকুই তাঁরা ঢাকতে চান আপন আত্মম্ভরিতা দিয়ে। এবং দিনের শেষে পুঁজির ব্যালেন্সশীট মেলাতে গেলে দেখা যায়, তাঁদের সেই স্বল্প পুঁজির প্রায় গোটাটাই আত্মম্ভরিতায় পরিপূর্ণ হয়ে বসে রয়েছে। অর্থাৎ আজকের সাহিত্যবাজারে যে কলসীবাদ্যের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, তার প্রায় সবটাই আত্মম্ভরিতার চালচিত্র।

এখন আমরা যদি একটু তলিয়ে দেখতে শুরু করি। দেখতে পাবো, একজন আত্মম্ভরি মানুষ, যাঁর মূল পুঁজির বেশিরভাগটাই আত্মম্ভরিতায় পূর্ণ। তিনি স্বভাবতঃই ঈর্ষাপরায়ণ হবেন। সেটাই বিধির বিধান। কেননা সেই মানুষটি নিজে তো ভালোই জানেন। কি পরিমাণ ফাঁকা তাঁর কলসী। ফলে তিনি দুইবেলা এক  অসীম নিরাপত্তার অভাবে ভুগতে থাকেন। পাছে যখন তখন তাঁর কলসী ফেটে যায়। সাহিত্যের হাটে তখন যে হাসির রোল উঠবে। সে বড়োই মর্মন্তুদ হবে তাঁর পক্ষে। ঠিক এই কারণেই তিনি বাকি কলসীবাদকদের সম্বন্ধে ঈর্ষাপরায়ণ হবেন। শুধুই তাঁর স্বগোত্রদের সম্বন্ধেই না, তিনি ঈর্ষাপরাণ হবেন প্রকৃত অর্থেই যাঁদের কলসী ফাঁকা নয় আদৌ। অন্তত কিছু পরিমাণ সাহিত্যের সামগ্রী রয়েছে। তাঁদের সম্বন্ধেও। অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি। একজন কবি কিংবা সাহিত্যিক। এমনকি যে কোন সৃজনশীল কর্মের সাথে যিনি নিজের পরিচিতি সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি একমাত্র তখনই ঈর্ষাপরায়ণ হবেন। যখন তিনি নিজে জানেন তাঁর কলসী কতটা বেশি ফাঁকা। কলসী ফাঁকা না হলে কোন কবি বা সাহিত্যিক। এমন কি একজন সৃজনশীল ব্যক্তিও কোনদিন ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠেন না। এটাও কিন্তু বিধির বিধান। অর্থাৎ মনুষ্য চরিত্র।

এবারে বর্তমান বাংলা সাহিত্যবাজারের দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাবো। বর্তমান কবি সাহিত্যিকদের একটা বড়ো অংশই পরস্পরকে ঈর্ষা করেন। হিংসে করেন। এবং প্রমথনাথ বিশী যেমন’টা বলেছিলেন, “বাঙালির মটো হলো, ‘এসো ভাই টেনে নামাই’”। সেই টেনে নামানোর লড়াইয়ে সামিল হয়ে পড়েন। কেন তাঁদের এই পরিণতি হয়। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বেই করা হয়েছে। এই পর্বে শুধু আরও একটি বিষয়ে আলোকপাত করার প্রয়োজন রয়েছে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে সাহিত্যবাজারে আজ ফাঁকা কলসীর যে চড়া বাজারদর, তার পিছনে বর্তমান যুগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি একটি নির্ণায়ক ভুমিকা গ্রহণ করেছে। এক একটি বড় বড়ো মিডিয়া হাউসের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের যে যোগাযোগ, সেই যোগাযোগ মিডিয়া হাউসগুলিকে অনেকটা পরিমাণে ক্ষমতাবান করে তোলে। সেই ক্ষমতা তাদের ব্যবসায়িক শ্রীবৃদ্ধির সহয়াক হয় নানান ভাবে। ফলে এই সকল মিডিয়া হাউসগুলি যখন সাহিত্যবাজারেও কারবার ফেঁদে বসে, তখন তাদের স্বার্থ ও রাজনৈতিক শিবির সমূহের স্বার্থ মিলে সাহিত্যের একটা গতিপথ ঠিক করে দিতে উদ্যত হবে সেটাই স্বাভাবিক। আর সেই কাজে সহায়তা করার বিষয়ে এইসকল মিডিয়া হাউসগুলি কিছু সাহিত্যিককে লাইমলাইটের আলোয় নিয়ে আসে। যেসকল সাহিত্যিকরা দিনে দিনে মিডিয়া হাউসগুলিরই প্রোডাক্টে পরিণত হয়ে ওঠে। আর সাহিত্যবাজারে এই প্রোডাক্টরাই করেকম্মে খেতে শুরু করে ভালোভাবে। ক্ষমতার অলিন্দে তাঁদের অবাধ বিচরণ। সরকারী বেসরকারী নানান পদ অলংকৃত করে তাঁরা প্রায় চৌদ্দোপুরুষের আখের ঘুছিয়ে নিতে স্বচেষ্ট হন। পারস্পরিক ঈর্ষার আরও একটি কারণের জন্ম হয় ঠিক এইখান থেকেই। ক্ষমতার প্রসাদ কে কত বেশি খাবেন। তারই একটি অলিখিত প্রতিযোগিতাও তাঁরা শুরু করে দেন নিজেদের ভিতরে। আর তখনই প্রমথনাথ বিশী কথিত সেই ‘এসো ভাই টেনে নামাই’ প্রকল্পে হাত দেন তাঁরা। কবি এবং সাহিত্যিক। শিল্পী এবং চিত্রকর। গায়ক এবং নায়ক। ক্ষমতাচর্চার চেয়ারের থেকে চেয়ারে বসার উদ্যোগী প্রার্থীর সংখ্যা এত বেশি যে, প্রতিযোগিতাও অত্যন্ত তীব্র। ফলে পরস্পর পরস্পরকে ফাউল করে নিজে এগিয়ে যাওয়ার বাসনাও ভয়ঙ্কর রকমের ভয়ঙ্কর। না, তাই বলে বিষয়টি খুনোখুনি’র পর্যায় যায় না। কিন্তু খেয়োখেয়ির পর্বের কোন শেষ নেই তাতে।

প্রথিতযশা সাহিত্যিক এই খেয়োখেয়ির চর্চা দেখে দেখে মর্মাহত হয়েই তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটে প্রসঙ্গটির অবতারণা করেন। এখন গোটা সমাজটাই যেখানে ঘূণে ধরে গিয়েছে। সেখানে সাহিত্যবাজারেও সেই ঘূণপোকা ঘুরপাক খেতে থাকবে। সেটাই তো স্বাভাবিক। ফলে আজকের কলসীবাদকরা শুধুই যে কলসী বাজিয়েই ক্ষান্ত হবেন। তেমনটিও নয়। তাঁদের খাঁই আরও বেশি। তাঁরা, যখন যে দল ক্ষমতায় সেই দলের চেয়ার মুছতে ছুটবেন। সেই দলের খিদমদগিরি করবেন। নিজে একটি চেয়ার দখল করার জন্য। সেই চেয়ারটি পেয়ে গেলেই পোয়াবারোর একশেষ। কাকে সরকারী কোন গ্রান্ট কখন পাইয়ে দিলে তাঁর বিশেষ বিশেষ স্বার্থ পূরণ হবে। আর কাকে কোন গ্রান্ট থেকে বঞ্চিত করতে পারলে তিনি পিঠচাপড়ানি পাবেন। সেই সকল হিসেবনিকেশ করার সুযোগ কলসী বাজানোর থেকেও বোধকরি সুখদায়ক। স্বভাবতঃই সেই সুখ ছাড়তে কোন কলসীবাদকই রাজি হবেন না। হওয়ার কথাও নয়। ঠিক সেই কারণেই এই সকল কলসীবাদকদেরকেও রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের মতোই আয়ারাম গয়ারামদের পথে দলবদল করতেও দেখা যায়। ক্ষমতার মধুর নেশা এমনই সর্বাত্মক। সেই নেশাতেই তাঁরা আজ নিজেদেরকে সাহিত্যবাজারের আড়কাঠি ধরে নিয়ে কখন কাকে তুলতে হবে আর কখন কাকে আছাড় মারতে হবে। সেই কাজেই ব্যস্ত থাকেন বেশি। পিছনে থাকা রাজনৈতিক ক্ষমতার শিবিরগুলি এই আড়কাঠিদের হাত করেই ভোটার সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে, যুবসমাজের মানসিক দিগন্তকে নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি একাধিক স্বার্থ পূরণ করতে থাকে। ফলে রাজনীতির কারবারী ও এই আড়কাঠিদের আঁতাত সাহিত্যবাজারের ফাঁকা কলসীর বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে।

ফলে একাধিক রাজনৈতিক শিবির একাধিক মিডিয়া হাউস এবং সাহিত্যবাজারের আড়কাঠিরা মিলে একাধিক সাহিত্য গোষ্ঠী গড়ে তুলবে সেটাও স্বাভাবিক। এবং পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সংঘাতে পরস্পর খেয়‌োখেয়ির সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। সেটাই স্বাভাববিক। ফলে সেখানে পারস্পরিক ঈর্ষা, এবং আত্মম্ভরিতার একটা ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। যে ইকোসিস্টেমের ভিতরে দমবন্ধ অবস্থা এই সময়ের বাংলা সাহিত্যের। আমরা বলছি জনপ্রিয় ধারার বাংলাসাহিত্যের কথা। আমরা বলছি কাঁটাতারের উভয় পারের বাংলাসাহিত্যের কথা। আমরা বলছি কলসীবাদক ও কলসীবাদ্যের আসরের কথা। আমরা বলছি না, এর বাইরে বাংলাসাহিত্যের কোন আলোর ভুবন নাই। আমরা বলছি না, এর বাইরে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ঋত্বিক কুমার ঘটকের মতো সৃষ্টিশীল সৃজনশীল মানুষ আজ আর একজনও নাই। যাঁদের দম্ভ তাঁদের কালোত্তীর্ণতায় পৌঁছিয়ে দিয়েছে। বন্ধুদের সাথে বাজি রেখে জীবনে প্রথম নিজের লেখা গল্প প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন মানিক। জানতেন সে লেখা এমনই প্রকাশিত হবে। কাউকে ধরে প্রকাশ করতে হবে না। কোন সরকারে তাঁবেদারি করে কোন রাজনৈতিক শিবিরের তল্পি বহন করে মানিক বা ঋত্বিক এবং তাঁদের মতো অসংখ্য কবি সাহিত্যিক সৃষ্টিশীল সৃজনশীল বাঙালি নিজেকে ক্ষমতার পায়ে বন্ধক রাখেননি কোনদিন। তার একটিই কারণ তাঁদের কলসী এমনই সব অমৃতে পূর্ণ ছিল। তাঁরা জানতেন পরবর্তী বহু যুগের জন্য তাঁরা অমৃত সৃজন করে গিয়েছেন। সেই কলসী ভরা হাটে ভেঙ্গে গেলেও লোক হাসাহাসির বিষয় হতো না। ফলে তাঁদের সমসাময়িক এবং পূর্বজ কারুর সম্বন্ধেই তাঁদের মনে ঈর্ষার কোন স্থান ছিল না। স্বগোত্রের কারুর প্রতিই তাঁদের মনে হিংসা ছিল না লেশমাত্র। নিজেদের সম্বন্ধে এতটাই আত্মপ্রত্যয় ছিল তাঁদের। কলেজ পড়ুয়া মানিক তাঁর দাদাকে পত্র দিয়েছিলেন। দাদা, গল্প উপন্যাস লেখার জন্য ভাইকে তিরস্কার করে মানিকের পড়ার খরচ বন্ধ করে দিতে, মানিক লিখেছিলেন একদিন বাঙালি পাঠক রবীন্দ্রনাথ শরতচন্দ্রের সাথে তাঁর নাম উচ্চারণ করবে। কতখানি আত্মপ্রত্যয় থাকলে এই ভবিষ্যৎবাণী করতে পারে একজন কলেজ পড়ুয়া লেখক। আমরা জানি, সেই রকম শক্তিশালী কলম আজও হয়তো কোথাও না কোথাও বাংলা সাহিত্যের দিগন্তকে প্রসারিত করতে সচল রয়েছে। আজকের সাহিত্যবাজারে যে কলমের মালিকরা পা দিতেও অস্বস্তি বোধ করেন। একদিন তাঁদের নিয়েই ধনী হবে বাংলাসাহিত্য। আমরা আজও আশাবাদী। শুধু কান পেতে রয়েছি।

৮ই জানিয়ারী’ ২০২২

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s